ইলা মিত্র

রাজশাহী আদালতে ইলা মিত্র ইংরেজিতে লিখিত যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তা থেকে তাঁর ওপর যে অত্যাচার হয়েছে সে বিষয়ে জানা যায়তিনি তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ‘বিগত ০৭.০১.৫০ তারিখে আমি রোহনপুর থেকে গ্রেপ্তার হই এবং পরদিন আমাকে নাচোল থানা হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়কিন্তু পথে পাহারাদার পুলিশরা আমার ওপর অত্যাচার করেনাচোলে ওরা আমাকে একটা সেলের মধ্যে রাখেসেখানে একজন পুলিশের দারোগা আমাকে এ মর্মে ভীতি প্রদর্শন করে যে, আমি যদি হত্যাকান্ড…

বিস্তারিত

অরবিন্দ ঘোষ

‘স্বদেশের স্বাধীনতা অর্জনের কারণে ডাকাতি করায় কোনো নৈতিক অপরাধ হয় না।’- অরবিন্দ ঘোষ। ১৯০৬ সাল। বিপ্লবী অগ্নিযুগের যাত্রা বলা চলে। সরাসরি ব্রিটিশ শাসন-শোষণ ও অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যে প্রতিবাদের শুরুটা করেছিলেন বীর সৈনিক মঙ্গলপাণ্ডে, ১৮৫৭ সালে। তারপর এই উপমহাদেশের মানুষ নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়ে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে সংঘবদ্ধভাবে ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদের জন্য লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য সংঘবদ্ধ হতে থাকে। অগ্নিযুগের শুরুতে ভারতমাতার অনেক অগ্নিসন্তান ব্রিটিশ শাসন অবসানের জন্য অগ্নিশপথ নিয়েছিলেন।যার…

বিস্তারিত

মনোরমা বসু মাসিমা

চন্দ্রদ্বীপ। বরিশালের পূর্বনাম। এটি ছিল তৎকালীন বঙ্গ প্রদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন-সংগ্রামে বরিশালের অবদান নানাদিক দিয়ে শ্রেষ্ঠতম। বরিশালের বানরীপাড়া ছিল সশস্ত্র বিপ্লববাদীদের তীর্থস্থান। বানরীপাড়ার পরে স্বরূপকাঠীর নাম উল্লেখযোগ্য। মূলত বরিশালের বানরীপাড়াই বিপ্লবীদের প্রধান ঘাঁটি ছিল। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব শাসনের বিরুদ্ধে বানরীপাড়া ও স্বরূপকাঠী সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করে। নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী কমিউনিস্টরা। তাদের মধ্যে মনোরমা বসু মাসিমা অন্যতম।বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠীর বুক চিঁড়ে বয়ে গেছে বিখ্যাত সন্ধ্যা নদী। নদীর…

বিস্তারিত

হেনা দাস

জয়তু বিপ্লবী হেনা’দি। লাল সালাম হেনা’দি। হেনা দাস। একটি নাম। একজন মানুষের নাম। আর মানুষ কখনো মরে না। মানুষ মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে। চিরদিন বেঁচে থাকে। যেমন বেঁচে আছেন সক্রেটিস, হ্যানিমান, লালন, কার্লমার্কস, লেনিন, মাও সে তুং, পাবলো নেরুদা, চে গুয়েভারা, আলেন্দ্রে, হো চি মিন, কিম ইল সুন, হুমায়ুন আজাদসহ লক্ষ মানুষ। তেমনি হেনা দাসও বেঁচে থাকবেন। থাকবেন আমাদের আদর্শ-চেতনায়। মানুষ মানুষের মধ্যেই বসবাস করে। মানুষ ছাড়া…

বিস্তারিত

সুনীল রায়

যখন ভারতমাতাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য এ উপমহাদেশের মানুষ সোচ্চার তখন সশস্ত্র বিপ্লববাদীরা প্রতিরোধ গড়ে ছিল সারা ভারতব্যাপী। চলছিল দেশকে স্বাধীন করার সব রকম প্রস্তুতি। ঠিক তখন সুনীল রায় জন্মেছিলেন, ১৯২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শ্যামনগর গ্রামে। বেঁচে ছিলেন প্রায় ৮১ বছর। তিনি ২০০১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মারা যান। ৮১ বছর জীবনের প্রায় ৭০ বছর কেটেছে তার আন্দোলন-সংগ্রামে, কখনো জেলে বা আত্মগোপনে।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি…

বিস্তারিত

সত্যেন সেন

‘সত্যেন সেনের সাহিত্যকর্ম সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতার একটি মহৎ নিদর্শন। এক্ষেত্রে তিনি বাংলা সাহিত্যের অনন্য পথিকৃৎ। মানুষের জীবন ও ইতিহাসকে যে রচনাকার সামগ্রীকভাবে অবলোকন করতে সক্ষম না হন, যিনি মানব সমাজটাকে তার বর্তমানের সকল বৈষম্য দূর করে সঙ্গতিপূর্ণ এক মানব সমাজ সৃষ্টিতে নিজেকে উৎসর্গ না করেন এবং যিনি দূরগামী সেই লক্ষ্যকে নিত্য মুহূর্তের কর্ম ও আচরণের সঙ্গে যুক্ত করতে না পারেন, তার পক্ষে সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতার অনুপ্রেরণাদায়ক সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব নয়। কারণ সমাজতান্ত্রিক…

বিস্তারিত

রবি নিয়োগী

রবি ও মনি দু’ভাই পিঠাপিঠি, দারুণ সখ্যতা দু’জনের। ছেলেবেলা থেকেই রবি ছিলেন গরীব-মেহনতি মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। আশেপাশে কোনো বস্ত্রহীন গরীব মানুষ দেখলে দু’ভাই তাদের মায়ের কাঠের সিন্দুক খুলে জামা কাপড় চুরি করে বিলিয়ে দিয়ে আসতেন। কিন্তু ঘটনার শেষ সেখানেই হতো না। এক ফাঁকে মনি মাকে বলে দিতেন, তোমার সিন্দুকে এই এই জিনিস নেই। সিন্দুক খুলে মা কথার সত্যতা খুঁজে পেতেন। জিনিসপত্র গেল কোথায়, কে নিল? মনি ভাইয়ের নাম বলে দিতেন।…

বিস্তারিত

মাতঙ্গিনী হাজরা

আমার যে সব দিতে হবে সে তো আমি জানি- আমার যত বিত্ত প্রভু, আমার যত বাণী, সব দিতে হবে।ইংরেজ রাজত্বের প্রথম দিকেই বাংলা পরাধীনতার শৃঙ্খল পরেছিল। ধীরে ধীরে সারা ভারতবর্ষকেও পরতে হয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের নাগপাশ। কিন্তু এই বাংলাদেশই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অগ্রণীর ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। বলাবাহুল্য, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল এই বাংলাই। নারী-পুরুষ সমবেতভাবেই ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। সন্ত্রাসের নায়িকাদের মধ্যে যেমন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, শান্তি ঘোষ,…

বিস্তারিত

মহম্মদ ইসমাইল

জন্ম ১৯১২। উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলার রঞ্জিৎপুরা গ্রামের এক ভূমিহীন কৃষক পরিবারে। বাবা শেখ মহম্মদ।মাত্র ছ’বছর বয়সে পিতৃহারা ইসমাইল ১১ বছর বয়সে চলে আসেন কলকাতায়। ছাত্র অবস্থাতেই কাজ নিতে হয় ইংরেজ মালিকের কারখানায়। মালিকের শোষণের বিরুদ্ধে চেতনার উন্মেষ সেখানেই। এই চেতনাই তাঁকে সামিল করে দেয় শ্রমিক-রাজনৈতিক-স্বাধীনতা আন্দোলনের মঞ্চে। ম্যাট্রিক পাশের পরেই ইতি ঘটে যায় প্রতাগত শিক্ষার। খিলাফত আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করে মাত্র ১৮ বছর বয়সে কারারুদ্ধ হন। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের পীঠস্থান…

বিস্তারিত

হরেকৃষ্ণ কোঙার

জন্ম: ৫ আগস্ট ১৯১৫। বর্ধমান জেলার রায়না থানার কামারগড়িয়া গ্রামে। বাবার ব্যবসায়ের সূত্রে অল্প বয়সেই মেমারি থানার দক্ষিণ রাধাকান্তপুর গ্রামে চলে আসেন। বাবা : শরৎচন্দ্র কোঙার, মা : সত্যবালা দেবী। শৈশবেই কমরেড কোঙার রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। যখন তিনি স্কুলের ছাত্র তখন থেকেই তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে থাকেন।১৯৩০ সালে শুরু হয় দেশব্যাপী আইন অমান্য আন্দোলন। কমরেড কোঙার তখন মেমারি বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের নবম শ্রেণীর ছাত্র। তিনি…

বিস্তারিত

Page 1 of 13

© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.