জহির রায়হান: বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি

সে জানতো যে দেশকে ভালবাসা এবং তাকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা তার জন্মগত এবং আদর্শগত অধিকারতাই আমরা জহিরকে দেখেছি এক বহুমুখী ভূমিকায়এ বেলা সে পাক- মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছে, ওবেলা দেখতাম সাংস্কৃতিক দলের অনুশীলনে স্ক্রিপ্ট পুর্নবিন্যাস করছেযখন কিছু কিছু লোককে দেখেছি নিজেদের ফিল্মের প্রিন্ট বিক্রি করে আর্থিক সাচ্ছল্য বাগাতে সচেষ্ট, ঠিক তখনি দেখেছি জহিরকে তার জীবন থেকে নেয়ার ভারতে বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ বাংলাদেশ সরকারকে দান করতে, স্বীয় অর্থকষ্ট থাকা সত্ত্বেও

ঘরে স্ত্রী সুচন্দা জ্বরে অজ্ঞান, বড় ছেলে অপুও অসুস্থজহির ঘরে নেইস্টুডিওতেরাত নেই, দিন নেই, ঘুম নেই- স্টপ জেনোসাইডতৈরি করছেও জানতো বাঙলার স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রচারই যথেষ্ট নয়বিশ্বের সকল পরাধীন শোষিত মানুষের সংগ্রামের সাথে বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের একাত্মতা বোঝাতে হবে এই ছবির মাধ্যমে

১৯৬৬ সালে চীন-রাশিয়া কেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিরোধের সময় শহীদুল্লাহ কায়সার মস্কোপন্থী হলে এ ব্যাপারে জহির ছিলেন দোদুল্যচিত্ত৬৯ গণ অভ্যুত্থানের দিকে জহিরের মধ্যে পিকিংপন্থী প্রভাব প্রত্যক্ষ করা যায়৭০ সালে এক্সপ্রেসপত্রিকা প্রকাশনার সময়ে তিনি মাওপন্থী উপদলগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখেনতাঁদেরকে মোটা অঙ্কের টাকাও দিতেনমস্কোপন্থীদের সাথে পারিবারিক ও বান্ধব সম্পর্ক ছিন্ন না করলেও তিনি পিকিংপন্থীদের প্রতি সহানুভূশীল ছিলেন এবং এদের মধ্যে ঐক্য কামনা করতেন

২৫ মার্চের সময়গুলোতে তিনি দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের কথা ভাবতেনওই সময় পার্টির সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি কলকাতা চলে যান এবং সেখানে আওয়ামী লীগ প্রধান সরকারের রোষানলে পড়েনতাঁর সেক্টরে যাতায়াত সীমিত করা হয়এই সরকারের নেতৃবর্গ পশ্চিমবঙ্গে সেন্সর বোর্ডকে স্টপ জেনোসাইড’-এর ছাড়পত্র না দিতে অনুরোধ করেনকারণ প্রথমত এ ছবিটি লেনিনের কোটেশন দিয়ে শুরু এবং আন্তর্জাতিকতার সুরে শেষদ্বিতীয়ত এ ছবিটিতে সরাসরি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা রয়েছে- এ দিকে আওয়ামী নেতারা তখনো কামনা করছেন মার্কিন সাহায্যতিনি এ সময় চীনের ভূমিকাকে সমর্থন করতেন নাতিনি কোন মাওবাদী উপদলেও যোগ দেননি

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে জহির রায়হান ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরে আসেনফিরে এসে শুনলেন অগ্রজ শহীদুল্লাহ কায়সার ১৪ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজতিনি পাগলের মতো তাকে খুঁজে বেড়াতে লাগলেনসাংবাদিক সম্মেলনে দৃপ্ত কন্ঠে বললেন, “বুদ্ধিজীবী নিধনের পেছনে এক আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আছে এবং এই চক্রান্তের সমস্ত রহস্য তিনি অচিরেই ভেদ করবেনতাঁর উদ্যোগে বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়তিনি নিজে তদন্তের কাজে নেমে পড়েনএমনি সময়ে কোনো একটি সূত্র থেকে সংবাদ পেলেন শহীদুল্লাহ কায়সার জীবিত অবস্থায় মিরপুরে আটক হয়ে আছেনজহির রায়হান ৩০ জানুয়ারি সার্চ পার্টির সঙ্গে মিরপুরে যানএরপর তার আর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নিনিখোঁজ ভাইকে খুঁজতে গিয়ে তিনি নিজেই চিরকালের জন্যে নিখোঁজ হয়ে গেলেন

জহির রায়হান ছিলেন এদেশের প্রগতিশীল চলচ্চিত্র আন্দোলনের পুরোধাতিনি ছিলেন একাধারে কাহিনীকার, চিত্রনাট্য রচয়িতা, পরিচালক, চিত্রগ্রাহক এবং প্রযোজকচলচ্চিত্রের আঙ্গিক ও গঠনশৈলীর নানান দিক নিয়ে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এক নব দিগন্তেএদেশে তিনিই প্রথম ইংরেজি ছবি লেট দেয়ার বি লাইটনির্মাণ করেনতৎকালীন পাকিস্তানে প্রথম রঙীন ছবি সঙ্গমতৈরি করেন জহির রায়হান, তাঁর হাতেই প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি বাহানার জন্ম হয়

ছাত্রজীবন থেকেই জহির রায়হান ছায়াছবি সম্পর্কে আগ্রহী ছিলেনছাত্রজীবনের শুরুতে চলচ্চিত্র সংক্রান্ত বই এবং পত্রপত্রিকার সঙ্গে তার পরিচয় ছিলো৫২ সালে কারাবরণের পর মুক্তি পেয়ে তিনি কলকাতায় প্রমথে বড়ুয়া মেমোরিয়াল ফটোগ্রাফিক স্কুলে চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষা লাভের জন্যে ভর্তি হনকিন্তু দশ মাসের কোর্স তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি, ছয় মাস পড়াশুনা করার পর অর্থাভাবে ঢাকায় ফিরে আসেনতারপর ছাত্রজীবন শেষ হবার আগেই ৫৬ সালের শেষদিকে প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক এ জে কারদারের সঙ্গে পরিচিত হনসে সময়ে কারদার জাগো হুয়া সাবেরাছবি করার জন্য ঢাকায় আসেনকারদার জহিরকে এই ছবির সহকারী পরিচালক নিযুক্ত করেনএখান থেকেই শুরু হয় জহির রায়হানের চলচ্চিত্র জীবনজাগো হুয়া সাভেরার পর তিনি পরিচালক সালাউদ্দিনের যে নদী মরুপথেএবং পরিচালক এহতেশামের এদেশ তোমার আমারছবিতে সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন১৯৫৬ সালে ঢাকায় স্থাপিত হয় ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এফডিসি)এবার তিনি নিজেই ছবি তৈরিতে হাত দিলেন, সহকারী নয়- পরিচালক হিসেবে

১৯৬১ সালে তার প্রথম পরিচালিত ছবি কখনো আসেনিমুক্তি লাভ করেএরপর তিনি পরিচালনা করলেন সোনার কাজল’ (১৯৬২), ‘কাঁচের দেয়াল’ (১৯৬৩), ‘সঙ্গম’ (উর্দু : ১৯৬৪), ‘বাহানা’ (১৯৬৫)’, ‘বেহুলা’ (১৯৬৬), ‘আনোয়ারা’ (১৯৬৭)এবং জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০)তাঁর আর কতদিনউপন্যাসের ইংরেজি ভাষান্তরিত ছবি লেট দেয়ার বি লাইটসমাপ্ত হবার আগেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়তিনি চলে যান ওপার বাংলায়এ সময় তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অত্যাচারকে কেন্দ্র করে তৈরী করেন প্রামাণ্যচিত্র স্টপ জেনোসাইডবার্থ অব আ নেশনতাঁর তত্ত্বাবধানে বাবুল চৌধুরীর ইনোসেন্ট মিলিয়নএবং আলমগীর কবীরের লিবারেশন ফাইটারসনামক প্রামাণ্যচিত্র দুটি নির্মিত হয়

চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি জহির রায়হান অনেকগুলো ছবি প্রযোজনা করেনসেগুলো হলো, ‘জুলেখা (১৯৬৭)’, ‘দুই ভাই’ (১৯৬৮)’, ‘সংসার’ (১৯৬৮), ‘সুয়োরাণী-দুয়োরাণী’ (১৯৬৮), ‘কুচবরণ কন্যা’ (১৯৬৮), ‘মনের মত বউ’ (১৯৬৯), ‘শেষ পর্যন-’ (১৯৬৯) এবং প্রতিশোধ’ (১৯৭২)

দেশের সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পটভূমিতে নির্মিত জীবন থেকে নেয়াছবিটি সংগ্রামী মানুষের আলেখ্য হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেযে সময়ে ছবিটির জন্ম , সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করলে এই ছবিকে একটি দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা বলে মানতে হয়এই ছবিটি নির্মাণ করতে গিয়ে পরিচালক জহির রায়হান অনেক সরকারি বাধার সম্মুখীন হনছবি নির্মাণের নেপথ্যের কাহিনী : ৭০ সালের ১৬ জানুয়ারি জহির রায়হান তিনজন মেয়ে ও এক পেয়ালা বিষনামে একটি ছবি করার জন্য এফডিসিতে আবেদন করেন২০ জানুয়ারি এফডিসি কর্তৃপক্ষ ছবিটির অনুমোদন দেয়২৮ জানুয়ারি জহির রায়হান ছবির নাম পরিবর্তন করেন- জীবন থেকে নেয়া১ ফেব্রুয়ারি ছবির শুটিং শুরু হয়১২ ফেব্রুয়ারি তিনি দৈনিক সংবাদ’-এ এক সাক্ষাৎকারে গণআন্দোলন নিয়ে ছবি তৈরী করার কথা ঘোষণা করেনতিনি বলেন, “যদি পত্রিকার পৃষ্ঠায় গণআন্দোলনের খবর লেখা যেতে পারে- তবে সে আন্দোলনকে বিষয়বস্তু করে চলচ্চিত্র করা যাবে না কেন?”

তিনি প্রশ্ন করেন, এদেশের কথা বলতে গেলে রাজনৈতিক জীবন তথা গণআন্দোলনকে বাদ দিয়ে চলচ্চিত্র কি সম্পূর্ণ হতে পারে? আমি তাই গণআন্দোলনের পটভূমিতে ছবি করতে চাই

তৎকালীন সরকার এতে উদ্বিগ্ন বোধ করেনএফডিসি কর্র্তৃপক্ষ ১৩ মার্চ ছবিটির এক্সপোজড ফিল্ম আটক করে নিয়ে যায় এবং জহির রায়হানকে অবিলম্বে চিত্রনাট্য জমা দেবার নির্দেশ দেয়১৪ মার্চ তিনি চিত্রনাট্য জমা দেনতথ্য সচিব জহির রায়হানের সঙ্গে সমগ্র বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পর চিফ সেক্রেটারিকে জানান, তিনি চিত্রনাট্য পড়েছেন, পরিচালক ইতোমধ্যে কিছু দৃশ্য পরিবর্তন করেছেন এবং তিনি সম্পূর্ণটাই সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দিতে সম্মত আছেন

এই প্রসঙ্গে তথ্য সচিব আরো লিখেন, প্রারম্ভিক বা নির্মাণ পর্বে কোনো ছবির কাজ বন্ধ করার বিধান নেইতাছাড়া এর ফলে জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন

৮ এপ্রিল সেন্সর বোর্ড ছবিটি দেখেনএতে উপস্থিত ৮ জনের মধ্যে ৬ জনই চিত্রায়িত দৃশ্যাবলী বাস্তব ও দেশে বিরাজমান ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে বলে মনে করেনঅতঃপর ১০ এপ্রিল জীবন থেকে নেয়ামুক্তি পায়জীবন থেকে নেয়াবিজ্ঞাপিত হয় এভাবে :

একটি দেশ

একটি সংসার

একটি চাবির গোছা

একটি আন্দোলন...

এই ছবির প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রীরা হলেন : খান আতা, সুচন্দা, রাজ্জাক, রওশন জামিল, রোজী, শওকত আকবর,আনোয়ার হোসেন, বেবী জামানসঙ্গীত পরিচালক-খান আতা, চিত্রগ্রাহক-আফজাল চৌধুরী, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক-জহির রায়হান

৬৫ সালে জহির রায়হান লেট দেয়ার বি লাইটছবি করার কথা ঘোষণা করেছিলেনবলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতের এই ছবি নির্মিত হবে ইংরেজি ভাষায় এবং ডাব করা হবে বাংলা, উর্দূ, রুশ এবং ফরাসি ভাষায়উর্দূ এবং ইংরেজি সংলাপ লিখেছেন কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, রুশ সংলাপ লিখবেন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রুশ ঔপন্যাসিক মিখাইল শলোকভপ্রধান চরিত্রে থাকবেন আফজাল চৌধুরী এবং সঙ্গীত পরিচালনা করবেন খান আতাজীবন থেকে নেয়ার সাফল্যের পর জহির রায়হান এই ছবির কাজ শুরু করেন ৭০ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসেছবির মহরত অনুষ্ঠিত হয় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এপরিচালক লেট দেয়ার বি লাইটছবির নায়ক-নায়িকা ওমর চিশতি ও অলিভিয়া গোমেজকে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেনকিন্তু কয়েকদিন পর তিনি আকস্মিকভাবে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অলিভিয়ার বদলে নায়িকা হিসেবে ববিতার নাম ঘোষণা করেনতারপর শুটিং শুরু হবার অল্প কিছুদিন পরেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ছবি অসমাপ্ত রেখে তিনি চলে যান ভারতে

ষাটের দশকে জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে একুশে ফেব্রুয়ারীনামে একটি ছবি তৈরীর পরিকল্পনা করেছিলেনমুর্তজা বশীর একুশে ফেব্রুয়ারীর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন, জহির রায়হান সেটি এফডিসিতে জমাও দিয়েছিলেননবারুণ ফিল্মসের ব্যানারে ছবিটি তৈরী হবার কথা ছিলবিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিলো খান আতা, সুমিতা, রহমান, শবনম, আনোয়ার, সুচন্দা, কবরী প্রমুখ শিল্পীরাকিন' এ ছবি নির্মাণের অনুমতি তাকে দেওয়া হয়নিমতুর্জা বশীর জানিয়েছেন, “এফডিসিতে খুঁজলে ছবির চিত্রনাট্য পাওয়া যাবে

জহির রায়হানের হাজার বছর ধরেউপন্যাস ১৯৬৪ সালে আদমজী পুরস্কারলাভ করে১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা উপন্যাসের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের জন্য তাকে বাংলা একাডেমী পুরস্কারে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়

১৯৬৪: 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভতৎকালীন পাকিস্তানে ১৯৬৫ সালে জহির রায়হান পরিচালিত কাঁচের দেয়ালছবিটি নিগার পুরস্কারলাভ করেএই ছবিটি ৭টি শাখায় পুরষ্কার জিতে নেয়তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালকের সম্মান লাভ করেন১৯৭২ সালে তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে তার জীবন থেকে নেয়াএবং স্টপ জেনোসাইডছবি দুটিকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়১৯৯২: সাহিত্যে কৃতিত্বের জন্য স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ

সাহিত্য কর্ম এবং শিল্পকৃতি উভয় ক্ষেত্রেই জহির রায়হানের প্রতিভার আশ্চর্য বিকাশ লক্ষ্য করা যায়কথাসাহিত্যে তার অবদান যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করতে হয়, তেমনি চলচ্চিত্রে তার দান মেনে নিতে হয় বিস্ময়ের সঙ্গেএই উভয় মাধ্যমেই তিনি মানুষের কথা বলেছেনপরিবেশ এবং পরিস্থিতির সঙ্গে তাকে আপস করতে হয়েছিলো বলে, হয়তো তাকে আভিধানিক অর্থে বামপন্থী বা কমিউনিস্ট বলা যাবে নাকিন্তু বামপন্থী রাজনীতি বা কমিউনিজম যে প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ এবং মুক্তি, জহির রায়হানের সাহিত্য ও শিল্পের একমাত্র লক্ষ্য ছিলো তা-ইতার সমসাময়িক লেখক শিল্পীদের ভেতর তিনি ছিলেন সবচেয়ে আধুনিক

 

তথ্যসূত্রঃ

জহির রায়হান_সরোয়ার জাহান, বাংলা একাডেমী

বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস_মোহাম্মদ হান্নান

জহির রায়হান রচনাবলী_ড. আশরাফ সিদ্দিকী

© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.